You are currently viewing এলার্জি কি, লক্ষণ  ও প্রতিরোধের উপায়
Food Allergy

এলার্জি কি, লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

এলার্জি কি?

আমাদের শরীরে Immune system  নামে এক ধরণের ব্যবস্থা আছে , যাকে সোজা বাংলায় বলা যায় রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা। Immune system আমাদের শরীরকে ক্ষতিকারক বস্তু, যেমন – ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, পরজীবী ইত্যাদি থেকে প্রতিরোধের মাধ্যমে নিজেকে রক্ষা করে। যখন আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কোনও নির্দিষ্ট উপাদানকে ক্ষতিকারক নয় কিন্তু ক্ষতিকারক হিসাবে ভাবে এবং প্রতিরোধের চেষ্টা করে তখন আমাদের শরীরে Allergic reaction বা এলার্জি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। আর এলার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টিকারী উপাদানগুলি Allergen নামেই পরিচিত।

অর্থাৎ এরা শত্রু নয়, বন্ধু। কিন্তু বন্ধুই যখন আমাদের শরীরে শত্রুর মত বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে তখন তাকেই আমরা এলার্জি বলি।

এলার্জি

এলার্জি প্রতিক্রিয়ার সময় আসলে কী ঘটে?

Immune system আমাদের শরীরকে এমনভাবে তৈরি করে রেখেছে যে, আমাদের শরীরের জন্য উপকারি বা ক্ষতিকারক উপাদান চিহ্নিত করার ক্ষমতা তার আছে। আমাদের শরীরে প্রতিনিয়ত অনেক ধরণের ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে। যখন কোন ব্যাকটেরিয়া শরীরের সংস্পর্শে আসে তখন ইমিউন সিস্টেম সেই ব্যাকটেরিয়াকে চিনে ফেলে এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। অনেক সময় এই ব্যবস্থাটা নিতে গিয়ে প্রতিক্রিয়ার মাত্রা এত ভয়ংকর হয় যে তখন বিভিন্ন ধরণের কেমিক্যাল রিএকশনের মাধ্যমে আমাদের শরীরে IgE নামক একটি প্রোটিন তৈরি করা শুরু করে, যা Allergen কে আঁকড়ে ধরে। এরপর Histamin এবং অন্যান্য রাসায়নিকগুলি শরীরের বিশেষ কোন কোষ থেকে বের হয়ে রক্তে মিশে যায় ফলে এলার্জি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এলার্জিতে হাঁচি, কাশি, শরীরে গোটা গোটা দাগ হওয়া, শরীরে লাল লাল চাকা চাকা হয়ে যাওয়া ইত্যাদি লক্ষনগুলোর জন্য Histamin এবং অন্যান্য অনেক কেমিক্যালকে দায়ী করা হয়।

এলার্জি উপসর্গ গুলো কি?

এলার্জির সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে –

অ্যালার্জি মুক্ত থাকার উপায়
এলার্জি যার আছে সেই একমাত্র জানে এলার্জি কতটা বেদনাদায়ক
  • চোখ চুলকানি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, চোখ থেকে পানি পরা
  • শরীরের বিভিন্ন অংশে গোটা গোটা, লাল লাল চাকা হয়ে ফুলে যাওয়া
  • বারবার হাঁচি হওয়া
  • সর্দি হওয়া
  • নাক চুলকানো
  • মাঝে মাঝে নাক বন্ধ থাকা
  • খাবারের অ্যালার্জির জন্য ডায়রিয়া, বমি হতে পারে
  • কাজে উৎসাহ না পাওয়া, ক্লান্ত বা অসুস্থ বোধ করা, জ্বর হওয়া 
  • গলা জিভ শুকিয়ে যাওয়ার মত অবস্থা হওয়া
  • গলা খুসখুস করা বা গলার ভিতর চুলকানি হওয়া
  • বদহজম
  • মাথাব্যাথা
  • শ্বাসকষ্ট
  • পোকামাকড়ের কামড়ের জন্য জায়গাটা ফুলে যাবে, লাল লাল ভাব, ব্যথা হবে 

উপসর্গগুলি মৃদু হলে আমরা কিছুটা অসুস্থ বোধ করি কিন্তু গুরুতর এলার্জির প্রতিক্রিয়া চরম মাত্রা ধারণ করে এমনকি চিকিৎসার অভাবে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

Anaphylaxis এবং এর লক্ষণসমূহ: 

অতি মারাত্মক এলার্জির প্রতিক্রিয়াকে Anaphylaxis বলা হয়। এটা আমাদের পুরো শরীরকে প্রভাবিত করে। 

এর লক্ষণগুলো হচ্ছে :

  • শরীরে মৌচাকের চাকা চাকা হয়ে ফুলে যাওয়া এবং এগুলোর চারদিকে চুলকানি হওয়া
  • শ্বাসকষ্ট
  • ডায়রিয়া/ বমি
  • গলা খুসখুস করা বা গলার ভিতর চুলকানি হওয়া
  • গলার জোর কমে যাওয়া বা কর্কশ শব্দ করা
  • হাত, পা, ঠোঁট বা মাথা ঝাঁকুনি দেওয়া
  • জ্ঞান হারিয়ে ফেলা

কি কারণে এলার্জি হয়?

সিজনাল এলার্জি নামে যে এলার্জি আছে, সেটা বছরের নির্দিষ্ট কোন একটা সময় দেখা দেয়

  • বাড়ি বা ঘরের আসবাবপত্র পরিষ্কার করার সময় অ্যালার্জি হতে পারে।
  • রোদে গেলে এলার্জি দেখা দিতে পারে
  • কারো ক্ষেত্রে সকালের দিকে হাঁচি, কাশি হয়, এটাও এক ধরনের এলার্জি
  • প্রাণী বা বিশেষ কোন প্রাণীর সংস্পর্শে আসলে এলার্জি দেখা দিতে পারে
  • নির্দিষ্ট কোন খাবার খেলে এলার্জি দেখা দিতে পারে
  • ফুলের ঘ্রাণ নিতে গেলে ফুলের রেনু থেকেও এলার্জি হতে পারে। এমনকি রেনু বাতাসে বেশি পরিমানে থাকলে সেভাবেও অ্যালার্জি হতে পারে
  • নির্দিষ্ট ওষুধের মাধ্যমেও এলার্জি হতে পারে

এলার্জি প্রকারভেদ:

  • ডাস্ট এলার্জি: আসবাবপত্র, বইপত্র, তোষক, বালিশ, বালিশের কাভার, পর্দা, বিছানার চাদরে বা পুরনো জিনিসপত্রে প্রচুর ধূলাবালি জন্মায়। এই ধূলাবালি থেকে ডাস্ট অ্যালার্জি হতে পারে।
ড্রাগ এলার্জি
  • ড্রাগ এলার্জি: ড্রাগ এলার্জি বা ওষুধের মাধ্যমে এলার্জি খুব অল্প সংখ্যক লোকের মধ্যেই ঘটে। বেশিরভাগ ওষুধের প্রতিক্রিয়াগুলো এলার্জিযুক্ত নয়, বরং এটি ওষুধের বৈশিষ্ট্যগুলোর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া। ওষুধের প্রতিক্রিয়ার কারণ নির্ণয় সাধারণত রোগীর রোগের ইতিহাস এবং উপসর্গগুলোর উপর নির্ভর করে। কখনও কখনও ড্রাগ এলার্জি জন্য ত্বকের পরীক্ষাও করা হয়।
ফুড এলার্জি
  • ফুড এলার্জি: খাবারে বিভিন্ন ধরণের এলার্জি রয়েছে। কিছু কিছু মানুষ আছে যারা ডিম, দুধ, মাছ, মাংস, বেগুন খেলেই এলার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। খাবারের মাধ্যমে শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়াকে ফুড এলার্জি বা খাদ্য এলার্জি বলে।
  • পোকা থেকে এলার্জিঃ মৌমাছি, মশা, পিঁপড়ার মত বিভিন্ন পোকামাকড়ের দংশন এলার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। তেলাপোকা এবং House mite (যে পোকাগুলো সাধারণত কার্পেট, জমা করে রাখা পুরানো জামাকাপড়, তুলা বা পশম দিয়ে তৈরি পুতুল বা খেলনা, পোষা প্রাণীর গায়ের লোম ইত্যাদিতে থাকে), এই দুটি পোকা হতে পারে বছরব্যাপী এলার্জি এবং হাঁপানির সবচেয়ে সাধারণ কারণ।
ল্যাটেক্স এলার্জি
ল্যাটেক্স এলার্জির প্রতিক্রিয়া
  • ল্যাটেক্স এলার্জিঃ রাবার তৈরি হয় রাবার গাছের আঠা দিয়ে, যা দিয়ে তৈরি হয় বিভিন্ন পণ্য , যেমন-গ্লাভস, বেলুন, কনডম ইত্যাদি। প্রাকৃতিক আঠা দিয়ে তৈরি হওয়া পণ্য ব্যবহারের মাধ্যমে যে এলার্জি হয় তাকে ল্যাটেক্স এলার্জি বলে। এই এলার্জি থেকে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি হতে পারে।
পোষা প্রাণী থেকে এলার্জি
  • পোষা প্রাণী থেকে এলার্জিঃ পোষা প্রাণী যেমন কুকুর বা বিড়ালের পশমে থাকা House mite বা পোষা প্রাণীর মুখের লালা থেকেও এলার্জি হতে পারে।
পরাগজনিত এলার্জি
  • পরাগজনিত এলার্জিঃ পরাগ হলো  সিজনাল এলার্জির অন্যতম কারন। অনেকে পরাগ এলার্জিকে “Hey fever” হিসাবে জানেন, তবে বিশেষজ্ঞরা সাধারণত একে “Seasonal Allergic Rhinitis” হিসাবে উল্লেখ করেন।
  • সান এলার্জিঃ যারা সূর্যের আলো বা রোদ সহ্য করতে পারেননা তাদের শরীরে চুলকানিসহ বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
  • কসমেটিক এলার্জিঃ বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী যেমন- শ্যাম্পু, ডিওডোরেন্ট, লোশন, মেকআপ ইত্যাদি শরীরে এলার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

এলার্জি প্রতিরোধের উপায়ঃ

এলার্জি হলেই আমরা ওষুধ খাই । কিন্তু কিছু সহজ পদক্ষেপ আছে যা সচেতনভাবে মেনে চললে আপনি যেখানেই থাকুন না কেন এলার্জির আক্রমণ থেকে আপনি নিজেকে মুক্ত রাখতে পারবেন…Continue

এলার্জি থেকে মুক্তি পেতে পরবর্তী কন্টেন্ট দেখুন………………………. “এলার্জি সনাক্তকরণের উপায় এবং নিজেকে কীভাবে এলার্জি মুক্ত রাখবেন“।

Arif Billah

স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য, উপাত্ত এবং পরামর্শ নিয়ে আমি সবসময় হাজির আছি আপনার পাশে!

মন্তব্য করুন