You are currently viewing হার্ট অ্যাটাক রোধ করতে চকলেট
ডার্ক চকলেট

হার্ট অ্যাটাক রোধ করতে চকলেট

চকলেট খেতে কে না ভালোবাসে? সেই চকলেট যদি আপনার হৃদয়ের যত্ন নিতেও পারদর্শী হয় তাহলে তো আর কথাই নেই। সাম্প্রতিক গবেষনা বলছে, ডার্ক চকলেট আপনার মূল্যবান কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমকে নিরাপদ রাখতে সাহায্য করতে পারে, কারণ এই চকলেটে কোকো সিম ফ্ল্যাভোনয়েড নামক উদ্ভিদ এর পুষ্টি যোগ করা হয়। আর হৃদয়ের সঙ্গে চকোলেটের এমনিতেই যুগ যুগ ধরে বেশ মধুর সম্পর্ক রয়েছে। হৃদয় ঘটিত ব্যাপার স্যাপার অনেক সময় চকোলেটের মধুর স্পর্শে আরও মিষ্টি হয়ে ওঠে।এবার হৃদয়ের স্বাস্থ্যের সঙ্গেও জড়িয়ে যেতে বসেছে চকোলেটের নাম। চিকিৎসকরা অনুমান করছেন হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক রোধে ডার্ক চকোলেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। এত যাদুকরী গুণাগুণ রয়েছে যার, সেই  ডার্ক চকলেট সম্পর্কে চলুন না আগে কিছু জেনে নেই। 

ডার্ক চকলেট কি? 

সাধারণ চকোলেটের মূল উপাদান হচ্ছে কোকো পাউডার, কোকো বাটার ও চিনি।মিল্ক চকলেটের তুলনায় ডার্ক চকলেটে কোকোয়ার পরিমাণ বেশি থাকে। ৭০-৮৫ ভাগ কোকোয়াসমৃদ্ধ চকলেটকেই বলে ডার্ক চকলেট। কোকোয়ার পরিমান একটু বেশি থাকে বলে এটা কিছুটা তিতকুটে স্বাদের। কিন্তু তাতে কি আসে যায় বলুন? এই চকলেটের যে কত জাদুকরী গুণ রয়েছে তা জানার পর তো আপনি মুগ্ধ হতে বাধ্য। বিশেষ করে ভালো মানের কালো বা ডার্ক চকলেটে রয়েছে প্রচুর পুষ্টি উপাদান। এতে আছে আঁশ, লোহা, ম্যাগনেশিয়াম, কপার, ম্যাংগানিজ, পটাশিয়াম, ফসফরাস, জিঙ্ক ও সেলেনিয়াম। শুধু কি তাই? আরও থাকে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও প্রাকৃতিক ‘মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট’ বা জীবের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থ।

হার্টের জন্য এটি কিভাবে উপকারী? 

হার্টের জন্য ডার্ক চকলেট যেভাবে কাজ করে
  • মস্তিষ্ক ও হৃৎপিণ্ডের রক্তপ্রবাহের উন্নতি সাধনে ডার্ক চকলেট ভূমিকা রাখে, তাই স্ট্রোক প্রতিরোধেও এটি খুবই কার্যকরী।  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লুইসিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা কোকো বীজ থেকে কোকোয়া ফ্ল্যাভানলস খুঁজে বার করেছেন। এটাই সেই বীজ যেখান থেকে আমরা চকোলেট পাই। গবেষকরা মনে করছেন এই ফ্ল্যাভানলস (যেটা আসলে একটি Antioxidant)  হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। 
  • গবেষকরা আরো মনে করছেন পাকস্থলীতে অবস্থিত কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া চকোলেটকে গিলে ফেলে তাকে গেঁজিয়ে তুলে এমন এক প্রদাহ বিরোধী বস্তু তৈরি করে যা হৃৎপিণ্ডের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী।এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত জন ফিনলে জানিয়েছেন চকোলেট অর্ধপাচ্য অবস্থায় কোলনে এসে পৌঁছালে সেখানে যে ব্যাকটেরিয়া গুলো থাকে সেগুলি লম্বা পলিফেনলিক পলিমার গুলিকে বিপাক ক্রিয়ার মাধ্যমে ভেঙে ছোট ছোট সহজ পাচ্য পলিমারে ভেঙে যায়। এই ছোট পলিমার গুলোর মধ্যে প্রদাহ বিরোধী উপাদান থাকে, যা শরীরের এবং সরাসরি হৃৎপিণ্ডের জন্য খুবই উপকারী।
  • সপ্তাহে দুই থেকে তিন বার অল্প পরিমানে ডার্ক চকলেট খেলে সেটা আপনার রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারে । শরীরের আভ্যন্তরীণ যে রক্ত জমাট বাধার প্রক্রিয়া আছে সেটা রোধ করে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতেও ডার্ক চকলেট এর ভূমিকা আছে। যাদের রক্তচাপ কম থাকে তাদের রক্তচাপ বাড়িয়ে রক্তচাপের ভারসাম্য রাখতেও ডার্ক চকলেটের জুড়ি নেই। এর একটি উপাদান Polyphenols এই ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর। 
  • Arteriosclerosis নামক রক্তনালী জমাট হয়ে যাওয়ার মত ভয়াবহ অবস্থা প্রতিরোধ করতেও বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে চলেছে ডার্ক চকলেট। 
  • ডার্ক চকলেটে এমন কিছু উপাদানের উপস্থিতি থাকে যা মস্তিস্ক থেকে Endorphins নামক হরমোন নিঃসৃত করায় যা আপনাকে সুখী ও আনন্দময় অনুভূতি দেবে। সুতরাং নি:সন্দেহে এটি আপনার Cognitive Health বা মানসিক অবস্থার উপর কল্যাণকর প্রভাব ফেলে। আর মন ভালো থাকলে আপনার হৃৎপিণ্ডও যে ভালো থাকবে সেতো হলফ করেই বলা যায়। 
  • রক্তের কোলেস্টেরল দুই প্রকার – ক্ষতিকর LDL কোলেস্টেরল আর উপকারী HDL কোলেস্টেরল। ডার্ক চকলেট দেহের জন্য ক্ষতিকর LDL কোলেস্টেরলকে দূর করে এবং রক্তনালী জমাট প্রক্রিয়া ব্যাহত করে এবং একই সাথে দেহের উপকারী HDL কোলেস্টেরল ও বাড়িয়ে দিয়ে হৃৎপিণ্ডকে ভালো রাখে। 
  • ডার্ক চকোলেটে যে পটাশিয়াম, কপার, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন এবং আরও অনেক ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ রয়েছে সেগুলো স্ট্রোক ও হৃদরোগ, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি প্রতিহত করে সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে।

তো কি ভাবছেন? সকালটা শুরু হয়ে যাক তাহলে এক টুকরো ডার্ক চকোলেট দিয়ে? 

This Post Has 5 Comments

Leave a Reply