You are currently viewing ল্যাপটপ : পুরুষের বন্ধ্যাত্বের এক নতুন কারণ
ল্যাপটপ কোলের উপর নিয়ে কাজ করা পুরুষের বন্ধ্যাত্বের কারণ ।

ল্যাপটপ : পুরুষের বন্ধ্যাত্বের এক নতুন কারণ

Impotence , সহজ ভাষায় যাকে বলা যায় যৌন অক্ষমতা বা দুর্বলতা, একুশ শতকে দাঁড়িয়েও অনেকের কাছেই এটি একটি ট্যাবু। তাই লোকসম্মুখে এই সমস্যাটি নিয়ে কথা বলতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। যৌন অক্ষমতার অনেকগুলো কারন রয়েছে। সেগুলো সম্পর্কে কমবেশি অনেকে অবগত আছেন। কিন্তু আমরা আজকে এমন একটি কারনের ব্যাপারে বলব যা যৌন অক্ষমতার কারণ হিসেবে অনেকেই অবগত নন। আর তা হচ্ছে ল্যাপটপ। কি চমকে গেলেন? ভাবছেন ল্যাপটপ কিভাবে যৌন অক্ষমতার কারন হতে পারে? সম্প্রতি টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এবং কিছু গবেষণা পত্রে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

ল্যাপটপ কিভাবে যৌন অক্ষমতার কারণ:
ল্যাপটপ বা একটি নোটবুক হল বহনযোগ্য ব্যক্তিগত কম্পিউটার যা  বিভিন্ন কাজে এখন আমরা ব্যবহার করছি যেমন কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষায় এবং ব্যক্তিগত বিনোদনের কাজে। ল্যাপ বা কোলে রেখে আরামে কাজ করা যায় বলেই এর নাম হয়েছে ল্যাপটপ। এই ল্যাপটপ এখন আমাদের স্বাচ্ছন্দ্যে, যেখানে খুশি বসে কাজ করার পূর্ণ সুবিধা দিচ্ছে বলেই এটি একুশ শতকের অপরিহার্য উপাদান হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কিন্তু এই জনপ্রিয় উপাদানটি যে ক্রমশ নিরব ঘাতকে পরিনত হয়েছে তা আমরা কয়েকদিন আগ পর্যন্ত ও বুঝতে পারিনি।  
স্টেট ইউনিভার্সটি অব নিউ ইয়র্কের একটি গবেষনায় দেখা গেছে যে, দৈনিক মোটামুটি এক ঘণ্টার বেশি ল্যাপটপ কোলে নিয়ে কাজ করলেই পুরুষদের বিপদের সম্ভাবনা রয়েছে। আর তা হলো এটি আপনাকে দিনের পর দিন Impotence বা পুরুষত্বহীনতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।  এমনকি ক্রমাগত ল্যাপটপ কোলের উপর নিয়ে কাজ করলে একজন পুরুষ হারাতে পারেন বাবা হওয়ার ক্ষমতা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে মহিলাদের এই ধরনের কোন ক্ষতির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়নি। তাহলে চলুন পুরুষদের এই মূল্যবান ক্ষতি সম্পর্কে একটু আলোকপাত করি।

সন্তান উৎপাদন ক্ষমতার উপর ল্যাপটপের প্রভাব: 
ল্যাপটপ ব্যবহারের সময় এর নিচের অংশ থেকে তাপ নির্গত হয়। সেই তাপেই ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শুক্রাণু।২০১০ সালে ২৯ জন পুরুষের উপর করা স্টেট ইউনিভার্সটি অব নিউ ইয়র্কের একটি গবেষণা দেখা গেছে যে ল্যাপটপ থেকে যে তাপ নিসৃত হয় তা পুরুষ ব্যবহারকারীর কোমরের নিচে বিশেষ করে জননেন্দ্রীয়তে শুক্রের সংখ্যাকে হুমকির মুখে ফেলে। গবেষনায় প্রায় ২ ডজন পুরুষ ছিল যাদের বয়স ২১-৩৫ এর মধ্যে। দেখা গেছে, বসে কাজ করতে গেলে ল্যাপটপকে ভালভাবে রাখার জন্য কোলের উপর বা তলপেটের কাছাকাছি রাখতে হয় এতে করে অন্ডদেশীয় তাপমাত্রা প্রায় বেড়ে ২.১°C (৩.৭৮ °F) হয়। ল্যাপটপ কোলে নিয়ে কাজ করার ফলে ল্যাপটপ থেকে নির্গত তাপ বাইরে বের হতে পারে না। ঠিক কতক্ষণ ল্যাপটপ কোলে নিয়ে কাজ করা বিপজ্জনক নির্দিষ্ট করে বলে দেয়া সম্ভব নয়। কারণ একেক কোম্পানির ল্যাপটপ থেকে নির্গত তাপের পরিমাণ একেক রকম।

আরেকটি গবেষণা প্রকাশিত হয় ফার্টিলিটি এবং র্স্টেরিলিটি জার্নালে। এখানে বলা হয় যারা কোলের উপর ল্যাপটপ রেখে কাজ করেন তাদের অন্ডদেশে হাইপারথার্মিয়া বা অতিমাত্রার তাপীয় অবস্থার শিকার হন যার ফলে অন্ডদেশে তাপমাত্রা ২°C বেড়ে যায়। এই তাপমাত্রার ফলে পুরুষত্বহীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেটা ল্যাপটপ কুশন বা বালিশ ব্যবহার করেও কমানো যায় না। এছাড়া ল্যাপটপের ফ্যান অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে গরম বাতাস তৈরি করে যা পরিস্থিতিকে আরো বিপদজনক করে তোলে। 


দ্যা নিউ টাইমসের আরেকটি গবেষণা পত্রে বলা হয়েছে যে, wi fi সহ ল্যাপটপগুলো যেগুলো এখন বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে সেগুলো সাধারণ ল্যাপটপের চেয়ে বেশি বৈদ্যুতিক চৌম্বকীয় বিকিরণ উৎপন্ন করে। সুতরাং বেশিরভাগ তরুণ যারা কাজ করার সময় বা সিনেমা দেখার সময় wi fi ব্যবহার করে তাদের কোলে দীর্ঘক্ষণ ল্যাপটপ রাখেন, তারা নিজের অজান্তেই তাদের দীর্ঘমেয়াদী বিপদ ডেকে আনছেন।
গবেষণায় আরো বলা হয়, কোলের ওপর ল্যাপটপ রাখলে ‘ল্যাপটপ থাই ডিসঅর্ডার’ নামে ত্বকের সমস্যা তৈরি হয়। সাধারণত তরুণরা দীর্ঘক্ষণ কোলের ওপর ল্যাপটপ রেখে ব্যবহার করে। সেই সাথে টাইট জিনস পরিহিত থাকলে প্রাথমিক অবস্থায় তাদের উরুতে হালকা দাগ দেখা যায় যা পরবর্তিতে গাঢ় কালো হয়ে ত্বকে সমস্যা তৈরি করে।

কিভাবে এই সমস্যার সমাধান করা যায়? 
সমস্যার কারন যেহেতু জানতে পারলেন পুরুষরা এখন সাবধান হোন। এই প্রায়োগিগ সমস্যার সমাধান হিসেবে যে  পরামর্শ দেয়া হয়েছে তা হলো ল্যাপটপের জন্য ছোট টেবিল, বই বা ডেস্কের ব্যবস্থা করুন। না পারলে বিছানায় রেখেই কাজ করুন। তবে ল্যাপটপ কোলে নিয়ে অন্ততপক্ষে কাজ করতে যাবেন না।  মোট কথা ল্যাপটপকে এমনভাবে ব্যবহার করুন যাতে করে ল্যাপটপ এবং শরীরের সর্ম্পক না থাকে। আরেকটি সমাধান হতে পারে একটি শীতলীকরন ব্যবহার করা। যা ইউএসবি’র মাধ্যমে ল্যাপটপের সাথে যুক্ত থাকে। এতে সাধারনত একের অধিক পাখা থাকে যেটা ল্যাপটপের নিচের দিকে প্লাস্টিকের খাচে বসানো থাকে। এটি ল্যাপটপের অতিরিক্ত গরম তাপ সরিয়ে দিয়ে ল্যাপটপকে ঠান্ডা রাখে।

আশা করছি আধুনিক পুরুষগণ উপরোল্লিখিত পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে নিরাপদে থাকবেন এবং আপনার আশেপাশের সবাইকেও এ ব্যাপারে সচেতন করবেন। শুভ হোক আপনাদের আগামী দিনের পদযাত্রা। 

This Post Has One Comment

Leave a Reply