You are currently viewing ল্যাটেক্স এলার্জি কি? এবং ল্যাটেক্স এলার্জি কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়?

ল্যাটেক্স এলার্জি কি? এবং ল্যাটেক্স এলার্জি কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়?

ল্যাটেক্স এলার্জি কি?

ল্যাটেক্স  হল, একটি প্রাকৃতিক পদার্থ যা রাবার গাছ থেকে উৎপাদিত হয় এবং দেখতে সাদা দুধের মত তরল এবং আঠালো। ল্যাটেক্স শব্দটি এসেছে ব্রাজিলের রাবার গাছের (হিভা ব্র্যাসিলিনেসিস) রস থেকে। রাবার গাছের রসকে বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রিত করে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা হয়। যেমন-গ্লাভস, রাবার ব্যান্ড, রাবার বল, বেলুন, কনডম । প্রাকৃতিক আঠা দিয়ে তৈরি হওয়া এসব পণ্য ব্যবহারের মাধ্যমে যে এলার্জির প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় তাকে ল্যাটেক্স এলার্জি বলে। এই এলার্জি থেকে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি হতে পারে। ল্যাটেক্স দিয়ে উৎপাদিত পণ্যে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের কারণে এলার্জির প্রকোপ বহুলাংশে বেড়ে যায়।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত অনেকগুলো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ল্যাটেক্স থাকে। যেমন-

  • বেলুন
  • গ্লাভস
  • রাবার
  • রাবার ব্যান্ড
  • রাবার বল
  • কনডম
  • ব্যান্ডেজ ইত্যাদি

যাদের ল্যাটেক্স এলার্জি আছে এমন মানুষ যখন এই পণ্যগুলোর সাথে সংস্পর্শে আসে তখন এলার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। 

সিন্থেটিক ল্যাটেক্স রাবার গাছ থেকে আসে না। তাই সিন্থেটিক ল্যাটেক্সের এক্সপোজারের ফলে ল্যাটেক্স এলার্জির লক্ষণ দেখা দেয় না।

ল্যাটেক্স এলার্জির লক্ষণগুলো হলঃ

ল্যাটেক্স এলার্জির প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে –

  • ল্যাটেক্সের তৈরি জিনিসগুলোর সাথে সংস্পর্শের পর ফোলাভাব, লালভাব এবং চুলকানি
  • বেলুন উড়িয়ে দেওয়ার পরে চুলকানি বা ত্বকে ফোলাফোলাভাব
  • ব্যান্ডেজ ব্যবহারের পরে চুলকানি, লাল বা ফোলা ত্বক
  • ডেন্টিস্টের কাছে ল্যাটেক্স গ্লোভস ব্যবহারের পরে মুখ বা জিহ্বার ফোলাভাব বা চুলকানি
  • যোনি বা মলদ্বার পরীক্ষার পরে চুলকানি বা ফোলাভাব
  • কনডম বা ডায়াফ্রাম ব্যবহারের পরে চুলকানি বা ফোলাভাব

ল্যাটেক্সের সাথে সংস্পর্শের পর থেকে এসব তীব্র প্রতিক্রিয়াগুলো দেখা দিতে পারে। এমনকি ল্যাটেক্স বেলুন বা গ্লাভসের বাতাসে অল্প পরিমাণে ল্যাটেক্সের উপস্থিতি ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়ার জন্য যথেষ্ট। ল্যাটেক্স এলার্জির তীব্র লক্ষণগুলো হচ্ছেঃ

  • হাঁচি
  • সর্দি
  • চুলকানি 
  • চোখ দিয়ে পানি পড়া
  • গলা বসে যাওয়া
  • শ্বাসকষ্ট
  • কাশি
  • এনাফাইলেক্সিস

মারাত্মক এলার্জিক প্রতিক্রিয়াকে এনাফাইলেক্সিস বলে। এনাফাইলেক্সিস মারাত্মক এবং প্রাণঘাতী হতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে, এনাফাইলেক্সিস থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

ল্যাটেক্স পণ্যগুলো বারবার ব্যবহার করলে পরিস্থিতি আরও তীব্র হতে পারে। তাই এই লক্ষণগুলো উপেক্ষা করবেন না। ল্যাটেক্সের দীর্ঘায়িত এক্সপোজারের কারণে কারো কারো দীর্ঘস্থায়ী হাঁপানির মতো অবস্থা তৈরি করতে পারে।

ল্যাটেক্সের এলার্জির কারণ কী?

এলার্জির প্রতিক্রিয়া হ’ল ক্ষতিকারক পদার্থের প্রতিরোধ ব্যবস্থাটির অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। ল্যাটেক্স অ্যালার্জিযুক্ত মানুষের অতিরিক্ত সংবেদনশীল প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে। তাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ল্যাটেক্সকে প্রতিক্রিয়া জানায় যেন এটি কোনও ক্ষতিকারক পদার্থ।

কীভাবে চিকিৎসকরা লেটেক্স এলার্জি নির্ণয় করতে পারেন?

আপনি যদি সন্দেহ করেন যে আপনার ল্যাটেক্স এলার্জি আছে তবে সাথে সাথে পরিচিত একজন ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। ল্যাটেক্স এলার্জি নির্ণয়ের জন্য, ডাক্তার আপনাকে আপনার রোগের ইতিহাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন এবং একটি শারীরিক পরীক্ষা করবেন। যদি তাতে ল্যাটেক্স এলার্জি আছে এমন সন্দেহ হয় তবে তারা রক্ত পরীক্ষা দিতে পারে। রক্ত পরীক্ষায় রক্তের নমুনায় ল্যাটেক্স অ্যান্টিবডি অনুসন্ধান করা হয়। ল্যাটেক্স এলার্জি নির্ণয়ের জন্য ডাক্তার আপনার পরীক্ষার ফলাফলগুলো আপনার রোগের ইতিহাস এবং শারীরিক পরীক্ষার সাথে তুলনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

ল্যাটেক্স ক্রস-প্রতিক্রিয়াশীল খাবারগুলো কী কী?

কিছু খাবারের মধ্যে প্রোটিন থাকে যা রাবার গাছের চারের মতো এলার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। যা লেটেক্স-ফুড সিনড্রোম বা লেটেক্স-ফ্রুট এলার্জি নামে পরিচিত। লেটেক্স প্রতিক্রিয়াশীল খাবারগুলোর মধ্যে রয়েছে –

  • কলা
  • বাদাম
  • আপেল
  • গাজর
  • শাক
  • পেঁপে
  • টমেটো
  • তরমুজ/বাঙ্গি

ল্যাটেক্স এলার্জি হলে কী করা উচিত?

আপনার যদি IgE ল্যাটেক্স এলার্জি থাকে তবে এনাফাইলেক্সিস কীভাবে সনাক্ত করতে হয় এবং কীভাবে এটি চিকিৎসা করা যায় তা জানতে আপনার ডাক্তারের কাছে পরামর্শ গ্রহণ করুণ।

ল্যাটেক্সে এলার্জি কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়:

  • ল্যাটেক্স এড়িয়ে চলতে হবে। ল্যাটেক্স এলার্জির একমাত্র চিকিৎসা হ’ল ল্যাটেক্সের তৈরি জিনিস ব্যবহার না করা।
  • শুধুমাত্র নন-লেটেক্স গ্লাভস ব্যবহার করা।
  • চিকিৎসক, দাঁতের চিকিৎসক এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের ল্যাটেক্স-মুক্ত গ্লাভস ব্যবহার করার নির্দেশ দেয়া।
  • যেকোন পণ্যে লেটেক্স রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য লেবেল পরীক্ষা করুন। পণ্যের গায়ে “হাইপোলোর্জিক পণ্য” লেখা থাকলেই সেটা  ল্যাটেক্সমুক্ত সেটা হলফ করে বলা যায় না।
  • যে সকল অঞ্চলে লেটেক্স তন্তু বাতাসে থাকার ঝুঁকি বেশি সেসব স্থান এড়িয়ে চলুন।
  • গ্লাভস যদি ব্যবহার করতেই হয় সেক্ষেত্রে পাউডারবিহীন গ্লাভস ব্যবহার করা উচিত।

Arif Billah

স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য, উপাত্ত এবং পরামর্শ নিয়ে আমি সবসময় হাজির আছি আপনার পাশে!

This Post Has 2 Comments

Leave a Reply