You are currently viewing রিদম মেথড – জন্মনিয়ন্ত্রনের একটি  প্রাকৃতিক পদ্ধতি
রিদম মেথড

রিদম মেথড – জন্মনিয়ন্ত্রনের একটি প্রাকৃতিক পদ্ধতি

অনেক রকম পদ্ধতি বাজারে রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সফল পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে জন্মবিরতিকরন পিল (মেয়েদের জন্য) ও নিরোধক বা কনডম (ছেলেদের জন্য)। কিন্তু এই পিল অনেকেরই অপছন্দনীয় কারন এগুলোর অনেক পার্শ্ব  প্রতিক্রিয়া রয়েছে। এছাড়া কনডম ব্যবহার করতে বেশীরভাগ পুরুষই অনিচ্ছুক থাকেন এবং এটি কখনওই ১০০% নিশ্চয়তা দিতে পারেনা। এসব সমস্যা ছাড়াও ধর্মীয় কারনেও উপরোল্লিখিত পদ্ধতির বাইরে প্রাকৃতিক পদ্ধতি সম্পর্কে অনেকে জানতে চান বা আগ্রহ প্রকাশ করে থাকেন।

প্রাকৃতিক পদ্ধতি কি?

এটি এমন একটি জন্মবিরতিকরন পদ্ধতি যার জন্য কোন ঔষধ বা নিরোধকের প্রয়োজন হয়না। নারীরা তাদের ব্যক্তিগত সচেতনতা এবং ঋতুচক্রের সময়কালের কিছু কিছু লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করেই এ পদ্ধতি সফলভাবে প্রয়োগ করতে পারেন।

জন্মনিয়ন্ত্রনের প্রাকৃতিক পদ্ধতি
জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি

প্রয়োগ পদ্ধতি

এই পদ্ধতি প্রয়োগের জন্য একটি ক্যালেন্ডারের প্রয়োজন হয়। এ কারনে একে ক্যালেন্ডার পদ্ধতি ও বলা হয়। সর্বপ্রথমে মাসিক শুরু হওয়ার দিনটি  ক্যালেন্ডারে চিহ্নিত করতে হয়। এই পদ্ধতির মাধ্যমে নারীর ডিম্বস্ফোটনকাল বের করাটাই মূল লক্ষ্য। ডিম্বস্ফোটন সাধারণত মাসিকের প্রথম দিন থেকে ১২তম বা ১৬তম দিনে হয়ে থাকে। তবে এই পদ্ধতিতে সেই সময়টা আরেকটু বাড়িয়ে ১০ম থেকে ১৮তম দিন পর্যন্ত করা হয়েছে। এই সময়কে ‘অনিরাপদ সময়’ হিসেবে ক্যালেন্ডারে চিহ্নিত করতে হবে, কারন এই সময়ে অনিরাপদ যৌনমিলন করলে গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। নারীর ঋতুচক্র সাধারণত ২৮ দিনের হয়ে থাকে। কারো কারো আবার ৩০ দিনের ও হয়। ‘অনিরাপদ সময়’ চিহ্নিত করার জন্য ঋতুচক্র থেকে ১৮ দিন বাদ দিতে হবে। ধরা যাক কোন নারীর ঋতুচক্র ২৮ দিনের। তাহলে তার অনিরাপদ সময়কাল হবে ২৮ – ১৮ = ১০, অর্থাৎ মাসিক শুরুর দিন থেকে ৯ম দিন পর্যন্ত গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ১০ম দিন থেকে যেহেতু অনিরাপদ সময় শুরু হয় এবং গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকে, এই সময়ে যৌনমিলন থেকে বিরত থাকতে হবে অথবা শুধুমাত্র কনডম / অপসারণ পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। তেমনিভাবে মাসিক শুরুর ২২তম দিন থেকে মাসিক শুরু হওয়ার দিন পর্যন্ত ৯ দিন ‘নিরাপদ কাল’। এসময়েও গর্ভধারনের সম্ভাবনা নেই।

রিদম পদ্ধতি কতটা নিরাপদ?

যেকোন জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি অবলম্বন করতে গেলে কিছু কিছু ঝুঁকি থেকেই যায়। রিদম পদ্ধতি সঠিক ভাবে প্রয়োগ করার জন্য মাসিক নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন। নতুবা এই পদ্ধতি ব্যর্থ হতে পারে। প্রাকৃতিক পদ্ধতি হওয়ায় এটি সম্পূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত এবং ৮০% নিরাপদ। 

রিদম পদ্ধতি কিভাবে সফল করা যায়? 

রিদম পদ্ধতি সফল করার জন্য বিগত ৬ মাসের ঋতুচক্র পর্যবেক্ষণ করা উচিৎ। এছাড়া স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সহযোগিতা না থাকলে এ পদ্ধতি সফল হবে না। তাছাড়া প্রথমবারের মতো রিদম পদ্ধতি প্রয়োগ করার আগে ১ বার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া খুবই প্রয়োজন।

Leave a Reply