You are currently viewing ফুড পয়জনিং সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য

ফুড পয়জনিং সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য

ফুড পয়জনিং কি?

খাবার থেকে যে অসুস্থতার সৃষ্টি হয় অর্থাৎ পচা বাসি, নষ্ট খাবার, দূষিত খাবার, ময়লাযুক্ত খাবার, জীবাণুযুক্ত খাবার, ময়লাযুক্ত থালাবাসনের খাবার মোটকথা অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে পেটে যে অসুস্থতার সৃষ্টি হয় তাকে খাদ্যে বিষক্রিয়া বা ফুড পয়জনিং বলে।

তবে পেট খারাপ হলেই ভেবে নেয়া যাবে না যে ফুড পয়জনিং হয়েছে। কেননা যেকোন খাবার থেকেই ফুড পয়জনিং হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ফুড পয়জনিং এর জন্য দায়ী হলো ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও পরজীবীর সংক্রমণ। আমরা প্রতিদিন নানা ধরনের খাবার খাই এবং সেগুলো মাঝেমধ্যে বাসি বা দূষিতও হতে পারে। কিন্তু এগুলো খাওয়া সত্বেও আমরা সবসময় কেন অসুস্থ হইনা? আসলে আমাদের শরীরে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস না পরজীবী সংক্রমিত করেছে, সেগুলোর উপস্থিতি কতটুকু খাবারে ছিল এবং সর্বোপরি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এটাকে কিভাবে মোকাবেলা করেছে  এরকম অনেক ব্যাপারের উপর আমাদের ফুড পয়জনিং হওয়া না হওয়া নির্ভর করে। যেকোনো বয়সে ফুড পয়জনিং হতে পারে তবে শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি হয়।

ফুড পয়জনিং এর লক্ষণ

ফুড পয়জনিং এর লক্ষণ সমূহঃ

খাবার খাওয়ার এক ঘন্টা পরে এবং ১০ দিন বা তারও বেশি দেরিতে ফুড পয়জনিং হতে পারে। ফুড পয়জনিং এর সাধারণ লক্ষণগুলো হলো –

  • বারবার বমি হওয়া
  • বমি বমি ভাব হওয়া
  • ডায়রিয়া বা  ঘনঘন পাতলা পায়খানা হওয়া
  • অনেক সময় জ্বর হতে পারে
  • পেট ফোলা এবং গ্যাস হওয়া
  • পেটে ব্যথা
  • দুর্বলতা বা ক্লান্তি (কোন কাজে উৎসাহ না পাওয়া)
  • মুখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া
  • মাংসপেশির দুর্বলতা
  • চোখে ঝাপসা দেখা

ফুড পয়জনিং এর  কারণসমূহঃ

  • আমরা যে খাবার খাই তার বেশিরভাগ খাবারের মধ্যেই জীবাণু থাকে । তবে রান্না করার সময় উচ্চতাপে খাবারে থাকা জীবাণু মরে যায়। কাঁচা ফলমূল এবং সবজি থেকেও ফুড পয়জনিং পারে।
  • খাবার উৎপাদন, সংরক্ষণ, রান্না সমস্যার কারণে ফুড পয়জনিং হতে পারে।
  • মাংস এবং দুগ্ধজাতীয় খাবার ফ্রিজে সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ না করলে খাবার নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে যার ফলে ফুড পয়জনিং হতে পারে।
  • অর্ধসিদ্ধ মাংস খাওয়ার ফলে ফুড পয়জনিং হতে পারে।
  • রান্নার সরঞ্জাম যেমন হাড়ি-পাতিল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না থাকলে সংক্রমণ হতে পারে।
  • হাত না ধুয়ে খাবার খেলে ফুড পয়জনিং হতে পারে।
  • খাবার পানি সংরক্ষণে সতর্ক থাকতে হবে কারণ খাবার পানি থেকেও ফুড পয়জনিং হতে পারে।
  • পচা-বাসি, দূষিত, জীবাণুযুক্ত, নষ্ট খাবার খেলে ফুড পয়জনিং হতে পারে।
  • খাবার খাওয়ার থালা বাটি অপরিষ্কার থাকলেও ফুড পয়জনিং হতে পারে।
  • পানির পিপাসা মেটাতে অনেক সময় রাস্তাঘাটে    

ময়লা পানি দিয়ে তৈরি করা লেবুর শরবত বা ফলের জুস ইত্যাদি খেলে আবার  কখনো কখনো বাসি ফুচকা চটপটি খেলে এসব খাবার থেকে ফুড পয়জনিং হতে পারে।

প্রতিরোধের উপায়

  • পানি খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে এবং পানি ফুটিয়ে খেতে হবে।
  • খাওয়ার আগে ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে।
  • বেশি দিনের পুরনো দুধ-কলা ফলমূল খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • উচ্চ আঁচে মাংস রান্না করতে হবে ফলে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়ে যাবে।
  • খাওয়ার আগে থালা-বাটি বাসন-কোসন ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।
  • রাস্তাঘাটে খোলা খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • গরমের দিনে হোটেলে খাবার খাওয়া থেকে যথাসম্ভব বিরত থাকতে হবে।
  • সবসময় খাবার ঢেকে রাখতে হবে তা নাহলে খাবারের উপরে কীটপতঙ্গ বসে জীবাণু ছড়াতে পারে।

প্রতিকারের উপায়

ফুড পয়জনিং সাধারণত ৪৮ ঘন্টার ভিতরে আপনা থেকেই ভালো হয়ে যায়। তবুও ফুড পয়জনিং হলে যা যা করা প্রয়োজন তা হলো –

  • ফুড পয়জনিং হলে প্রচুর পরিমাণে পানিশূন্যতা দেখা দেয় এবং এই পানিশূন্যতা পূরণ করতে প্রচুর তরল খাদ্য খাওয়া প্রয়োজন। তাই ডাবের পানি, ফলের রস খেতে হবে এবং নিয়মানুযায়ী স্যালাইন গ্রহণ করতে হবে।
  • ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় এড়িয়ে যেতে হবে কারণ ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় খেলে পরিপাক নালীর যন্ত্রণা বৃদ্ধি পেতে পারে।
  • ফুড পয়জনিং ভালো না হওয়া পর্যন্ত দুধ এবং এবং দুগ্ধজাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে।
  • চর্বিযুক্ত এবং মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
  • অবস্থা বেশি খারাপ হলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিবায়োটিক গ্রহণ করতে হবে।
  • বিশ্রাম নিতে হবে।

কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিৎ?

  • ডিহাইড্রেশনের কোন লক্ষণ যেমন শুষ্ক মুখ, সামান্য বা প্রসাব না হওয়া, মাথা ঘোরা বা চোখ কোঠরে ঢুকে যাওয়ার মত লক্ষণ দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
  • নবজাতক বা শিশুদের ডায়রিয়া হলে
  • বমি না করেও তরল ধরে রাখতে অক্ষমতা দেখা দিলে
  • ডায়রিয়া ২ দিনের বেশি এবং (বাচ্চার ১ দিন) বা তীব্র হলে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।
  • মারাত্মক অন্ত্রে ব্যথা বা বমি বমিভাব হলে।
  • ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তারও বেশি জ্বর, বা তিন মাসের চেয়ে কম বাচ্চার ক্ষেত্রে পায়ুপথে   ১০০.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা থাকলে
  • পায়খানা আলকাতরার মতো কালো বা পায়খানার সাথে রক্ত গেলে
  • পেশীর দূর্বলতা দেখা দিলে
  • বাহুতে ঝাঁকুনি
  • ঝাপসা দৃষ্টি
  • জন্ডিস (হলুদ ত্বক), যা হেপাটাইটিস এর মত লক্ষণ হতে পারে
  • গর্ভবতী মহিলাদের ডায়রিয়া বা ফ্লুর মতো অসুস্থতা দেখা দিলে  অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

Arif Billah

স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য, উপাত্ত এবং পরামর্শ নিয়ে আমি সবসময় হাজির আছি আপনার পাশে!

Leave a Reply