You are currently viewing প্রাত্যহিক  সকালের  নাস্তা – একটি স্বাস্থ্যকর  অভ্যাস
সকালের নাস্তা

প্রাত্যহিক সকালের নাস্তা – একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস

সকালের নাস্তা প্রতিদিনের শক্তি এবং পুষ্টি সরবরাহ করার একটি অন্যতম উপায়। নিয়মিত সকালের নাস্তা গ্রহণের সাথে সুষম পুষ্টি, ইতিবাচক শারীরিক দৃষ্টিভঙ্গি, মানসিক অবসাদ দূরীকরণ, উৎফুল্ল মন এবং শরীরের স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় থাকার একটি সুনিবিড় সম্পর্ক আছে।

শিশুকিশোরদের জন্য কেন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ

এটি শিশুকিশোরদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ গবেষণায় দেখা গেছে  যেসব শিশু সকালের নাস্তা খেয়ে স্কুলে যায় তারা অন্যরা যারা নাস্তা বাদ দেয় তাদের তুলনায় পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে। যুক্তরাজ্যে লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ২৯৪ জন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীর উপর গবেষণা চালিয়ে সকালের নাস্তা এবং পরীক্ষায় ফলাফলের সাথে একটি যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন। তারা গবেষণা চালিয়ে যে ফলাফল পেলেন তা হল, যেসব শিক্ষার্থী নাস্তা খেয়ে ক্লাস করেছে তারা ক্লাস পরীক্ষায় অন্যদের তুলনায় ১০.২৫ নম্বর করে বেশি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, তারা অন্য যারা নাস্তা বাদ দিয়েছে তাদের তুলনায় ক্লাসে বেশি মনোযোগী এবং একাগ্রতাও দেখিয়েছে। তাই ভালো ফলাফল করতে চাইলে সকালের নাস্তা কোনভাবেই বাদ দেয়া যাবেনা।

সকালের নাস্তার সর্বাধিক উপকারিতা

যারা নিয়মিত সকালের নাস্তা গ্রহণ করেন তাদের মধ্যে অনেক ইতিবাচক অভ্যাস পরিলক্ষিত হয়। অন্যদের তুলনায় তাদের কর্মদক্ষতা, উপস্থিত বুদ্ধি, বিপদ এবং মানসিক চাপের মত কঠিন পরিস্থিতি সামলানোর মত দক্ষতা অনেক বেশি হয়ে থাকে। নিয়মিত সকালের নাস্তা খেলে অসময়ে অস্বাস্থ্যকর বাইরের খাবার খাওয়ার প্রবণতা অনেকাংশে কমে যায়। ওজন এবং সারাদিনের শর্করার (যেমন, ভাত, রুটি ইত্যাদি) চাহিদা কমাতে চাইলে সকালের নাস্তা কোনভাবেই বাদ দেয়া উচিৎ নয়।

কখন সকালের নাস্তা করা উচিৎ

সারারাত উপোষ থাকার পর সকালের নাস্তা আমাদের শরীরে তাৎক্ষণিকভাবে শর্করার যোগান দেয়। তাই আলসেমি করে বা কাজের চাপে সকালের নাস্তা না খেলে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্থ হয়। একারণে সকালে ঘুম থেকে ওঠার দুই ঘণ্টার মধ্যেই সকালের নাস্তা সারা উচিৎ। এতে করে শরীরের ইনসুলিনের নিঃসরণ বাধাগ্রস্থ হয়না এবং রক্তের শর্করার মাত্রা সঠিকভাবে থাকে।

সকালের নাস্তায় কোন কোন খাবারগুলো থাকা উচিৎ

একটি স্বাস্থ্যকর সকালের নাস্তায় সুষম পুষ্টিগুনসমৃদ্ধ খাবারের সমন্ব্য়তা খুবই জরুরী। এটি আপনার সারাদিনের খাবারের আঁশ এবং ক্যালসিয়ামের একটি বড় উৎস হতে পারে।  তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্য তালিকায় ডিম, আটার রুটি, সবজি, ফল এবং ফলের রস, দুধ এগুলো থাকা খুবই জরুরী। এগুলো আপনাকে শরীরের পুষ্টি যোগাতে এবং কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করবে।

সকালের নাস্তা বাদ দিলে কি কি ক্ষতি হতে পারে

সকালের নাস্তা যেমন আমাদের অনেক উপকার করে তেমনি দিনের পর দিন সকালের নাস্তা বাদ দিলে নিজের অজান্তেই শরীরের কিছু ক্ষতিও হয়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি, হার্টের সমস্যা, হাড়ক্ষয়, খিটখিটে ভাব এবং মানসিক অবসাদগ্রস্থতা, অনিয়মিত মাসিক, কর্মস্পৃহা হ্রাস, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া এবং হরমোনের অসামঞ্জস্যতা এসবই সকালের নাস্তা বাদ দেয়ার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।

This Post Has One Comment

Leave a Reply