You are currently viewing কি কি খাবারের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবেন
স্বাস্থ্যকর খাবার

কি কি খাবারের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবেন

বর্তমানে করোনা ভাইরাস আতংকে কাঁপছে পুরো বিশ্ব। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে বিশ্বের হাজার হাজার মানুষ। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। চরম ঝুঁকিতে বাংলাদেশও। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যেহেতু করোনা ভাইরাসের তেমন কোনো প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কার হয়নি। তাই আমাদের সচেতনতাই পারে এই ভাইরাসকে রুখে দিতে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হলে করোনা ভাইরাসের কাছে ঘায়েল হতে হবে না। বরং এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি থাকবে। এজন্য করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিশেষজ্ঞ এবং চিকিৎসকরা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর ওপর বারবার জোর দিতে বলেছেন। এ সময় শরীর, স্বাস্থ্য, মন থেকে শুরু করে সবদিক থেকে সতর্ক থাকতে হবে সবাইকে। বিশেষ করে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়াই ভাল। স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখা দরকার। কেননা স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। মানুষ কীভাবে সুস্থ থাকতে পারে এবং কোন উপায়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে, সেটি নিয়ে নানামুখী গবেষণা হয়েছে বিশ্বজুড়ে। চিকিৎসক এবং পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলছেন, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী না হলে অল্প অসুস্থতাতেও মানুষ খুব সহজে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রোগের আক্রমণও জোরালো হয়।

কি কি খাবার খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে?

শরীর সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবন-যাপনের পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করছেন চিকিৎসকরা। মানুষ সচরাচর যে ধরণের খাবার খায়, সেগুলো হচ্ছে – শর্করা, প্রোটিন এবং ফ্যাট বা চর্বি জাতীয় খাবার। এ ধরণের খাবার শরীরের জন্য অবশ্যই প্রয়োজন। মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নির্ভর করে ভিটামিন এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট-এর উপর। ফল এবং শাকসবজিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট এবং অন্যান্য উপাদান রয়েছে যা যেকোনো জীবাণুকে অকার্যকর করতে পারে। ফল বা সবজি গ্রহণ সি-রিএক্টিভ প্রোটিন এবং টিউমার ন্যাক্রোসিস ফ্যাক্টরের মাত্রা হ্রাস করে এবং γδ-T সেল বৃদ্ধি করে। এছাড়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ধরণের খাবার সুষমভাবে খেতে হবে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এই সঙ্কটকালীন সময়ে রোগ প্রতিরোধ বাড়ায় এমন খাবার বেশি বেশি খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। শরীরকে রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রস্তুত করতে চিকিৎসকরা বেশ কিছু খাবার খাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক কোন কোন খাবারগুলো খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

  • প্রোটিনঃ একজন মানুষ প্রতিদিন যে পরিমাণ খাবার খেয়ে থাকেন, তার ৬০ শতাংশ হওয়া উচিত কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা। এর পর ৩০ শতাংশ হতে হবে প্রোটিন এবং ৫ শতাংশের মতো থাকবে চর্বিজাতীয় খাবার। আমাদের দেশে দেখা যায়, শর্করা প্রচুর খাওয়া হচ্ছে কিন্তু সে পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করা হয়না। অথচ প্রোটিন শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা বাড়ায়, রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার শক্তি জোগায়। শরীর সুস্থ রাখতে উন্নত মানের প্রোটিনযুক্ত খাবার খেতে হবে। ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, ডাল থেকে আমরা প্রোটিন পেতে পারি । তবে লাল মাংস এড়িয়ে যাওয়া ভালো। ভালো প্রোটিনের যে উপকার, লাল মাংসে তা পাওয়া যায় না। প্রোটিনের এই ডোজ হচ্ছে শরীরের ওজনের প্রতি কেজির জন্য এক গ্রাম করে। অর্থাৎ, কারও ওজন যদি ৬৮ কেজি হয়, তবে দৈনিক তাঁর ৬৮ থেকে ৭০ গ্রাম পর্যন্ত প্রোটিন দরকার।
  • কাঠবাদামঃ কাঠবাদামে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ই, এ, বি ১, বি ৬ ও ম্যাগনেশিয়াম থাকে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ভিটামিন ই খুবই শক্তিশালী একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি ঠাণ্ডার সমস্যা ও কাশি প্রতিরোধ করে। এর স্বাস্থ্যকর ফ্যাট শরীরে শক্তি প্রদান করে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বজায় রাখে এবং ক্ষতিকর বিভিন্ন উপাদান থেকে রক্ষা করে।
  • ডার্ক চকোলেটঃ ডার্ক চকোলেটে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে এতে যেহেতু ফ্যাট ও ক্যালরি থাকে তাই এটি পরিমিত পরিমাণ খাওয়া উচিত।
  • কপিঃ কপি জাতীয় যেকোনো সবজিই আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যে উপকারী। বাঁধাকপি কিংবা ফুলকপি প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় রাখা উচিৎ। শুধু ভিটামিন এ, সি এবং ই রয়েছে কপিতে তা নয়, এতে রয়েছে ফোটোনিউট্রিয়েন্টস, যেমন পলিফেনল এবং গ্লুকোসিনোলেট যা শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। বাঁধাকপিতে থাকা এই উপাদানগুলো রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম। এছাড়া এটি অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়িয়ে অন্ত্র এবং ত্বকের রোগ প্রতিরোধক কোষগুলোকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্যে করে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, যাঁরা নিয়মিত বাঁধাকপি খান তাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি। রান্নার সময় কপি পুরো সেদ্ধ না করে আধা সেদ্ধ করলে এর পুরো খাদ্যগুণ বজায় থাকে।
  • সামুদ্রিক মাছঃ সামুদ্রিক মাছ অনেকের কাছেই প্রিয়। স্বাদ ও গন্ধের পাশাপাশি এই মাছের আছে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা। ওমেগা থ্রি সমৃদ্ধ সামুদ্রিক মাছ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাই পাতে রাখুন সামুদ্রিক মাছ।
  • ব্রকলিঃ ব্রকলিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে যা রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।। ক্যাবেজ পরিবার থেকে আসা ফুলের মতো দেখতে এই খাবারটিতে রয়েছে ভিটামিন এ, সি এবং ই, যা ফ্রি রেডিক্যালের বিরুদ্ধে লড়ে।
  • চাঃ গ্রিন টি, ব্ল্যাক টি এবং মশলা চা স্বাস্থ্যের জন্যে বেশ উপকারী। এতে থাকা ‘পলিফেনল’ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়া গ্রিন টিতে থাকা ‘অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট’ রোগ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।
  • মিষ্টি আলুঃ মিষ্টি আলুতে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ বিটা ক্যারোটিন রয়েছে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাই খাবারের তালিকায় থাকুক মিষ্টি আলু।
  • পালংশাকঃ পালংশাকে আছে ভিটামিন সি, ই, আয়রন, ফ্লাভোনয়েডস এবং ক্যারোটিনয়েডের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভীষণ কার্যকরী। আয়রন এমন একটি খনিজ উপাদান যা লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদনের জন্য জরুরি তো বটেই, এটা রক্তস্বল্পতাও প্রতিরোধ করে। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধের কোষ বৃদ্ধির জন্যেও এটা জরুরি।
  • কাঁচা মরিচ/ লাল ক্যাপসিকামঃ সব প্রজাতির মরিচেই রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। ক্যাপসিকামও এর বাইরে নয়, বিশেষ করে লাল ক্যাপসিকাম। এছাড়া এই উজ্জ্বল রঙের খাবারটিতে রয়েছে ক্যারোটিনয়েড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী উপাদান। এতে অ্যান্টিব্যাক্টোরিয়াল উপাদান থাকে এবং এটি ত্বকের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
  • দুগ্ধজাত খাবার/প্রক্রিয়াজাত খাবারঃ দুগ্ধজাত খাবারগুলোকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘প্রোবায়েটিক সমৃদ্ধ’ খাবার হিসেবে অভিহিত করা হয়। যেমন- দই, ঘোল, ছানা ইত্যাদি। এর মধ্যে দই হচ্ছে ফার্মেন্টেড ফুড বা গাঁজায়িত খাদ্য। এগুলো প্রাণীজ বা উদ্ভিজ্জ উৎসের সে সকল খাদ্য, যা ল্যাক্টোফারমেন্টশোন পদ্ধতিতে উৎপাদিত হয়; যেখানে প্রাকৃতিকভাবে বিরাজমান ব্যাকটেরিয়া, চিনি ও শর্করা জাতীয় খাদ্যের উপর নির্ভর করে এবং ল্যাকটিক এসিড উৎপাদন করে। মানুষের পাকস্থলিতে যে আবরণ আছে, সেটার ভেতরে বেশ কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে। যখন তাদের মাত্রা বেশি থাকে তখন আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশি হয়। দইয়ে আছে ‘ল্যাকটোব্যাসিলাস’ ব্যাকটেরিয়া, যা পেট বা অন্ত্রের সুরক্ষা দেয়। এই ব্যাকটেরিয়াগুলোকে ‘প্রোবায়োটিক’ বলা হয়। ‘প্রোবায়েটিক সমৃদ্ধ’ দুগ্ধজাত খাবারগুলো অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে সাহায্য করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে। পাকস্থলীতে যদি উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমে যায় তখন সেখানে ক্যান্সার বাসা বাঁধতে পারে। তবে কৃত্রিম উপায়ে তৈরি বা মিষ্টি দই না খেয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি টক বা সাদা দই খাওয়াটা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এছাড়া ভাইরাসের সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পেতে বেশি বেশি প্রক্রিয়াজাত খাবার খান। দই, পান্তা ভাত, শুটকি মাছ ইত্যাদি প্রক্রিয়াজাত খাবার খেতে পারেন। এছাড়া বাঁধাকপির সঙ্গে লবণ মিশিয়ে উচ্চ ব্যকটেরিয়া সমৃদ্ধ প্রক্রিয়াজাত খাবার ঘরেই তৈরি করে নিতে পারেন।
  • হাড়ের ঝোলঃ এই খাবারটি অবশ্য নিরামিষভোজী বা নিরামিষাশীদের জন্য উপযুক্ত নয়। তবে আপনি যদি মাংস খান, তাহলে হাড়ের ঝোল আপনার জন্য খুবই উপকারী উপাদান হতে পারে। হাড়ের ঝোল এল-গ্লুটামিনে পূর্ণ, এটি শরীরের জন্য অতি প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড সরবরাহ করে যা শরীর উৎপাদন করতে পারে না এবং কেবল খাবার থেকেই আমরা এটি পেতে পারি। গ্লুটামাইন অন্ত্রের প্রাচীরসহ কোষের মেরামতকে সহায়তা করে। শক্তিশালী ইমিউন সিস্টেমের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর এবং রোগমুক্ত অন্ত্র অপরিহার্য। যদি আপনি হাড়ের সঙ্গে ভিনেগার এবং পানি মিশিয়ে ফুটান তাহলে এটা ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাসিয়ামযুক্ত খাবার উৎপন্ন করবে। এটা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া এটি খেলে শ্বাসনালীর কষ্ট দূর হয় এবং গলার খুসখুসে ভাব কমিয়ে দেয়।
  • বিটা গ্লুকান: এটি একটি দ্রবণীয় ফাইবার যা ইস্ট থেকে পাওয়া যায়। এটি আপনার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাটিকে ইতিবাচকভাবে উদ্দীপিত করতে পারে। হাঁপানি বা অ্যালার্জির মত ক্রনিক রোগগুলোর বিরুদ্ধে এটি শক্তিশালী লড়াই করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে বিটা গ্লুকান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করতে পারে।
  • মাশরুম: মাশরুমে প্রায় ৪০০ প্রজাতির ছত্রাক রয়েছে যা এগুলোর ঔষধী গুণাবলী দ্বারা চিহ্নিত হয়েছে। এছাড়া মাশরুমে অনেক অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ রয়েছে। মাশরুমে বিটা গ্লুকান অনেক বেশি রয়েছে যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে উন্নত করতে প্রাকৃতিকভাবে সাহায্য করে। এটি নিশ্চিত যে মাশরুম ভাইরাসের সংক্রমণের বিরুদ্ধেও কার্যকরী।
  • ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার: শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং বিভিন্ন ধরনের রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষমতার জন্য ভিটামিন সি এর কার্যকারিতা অনেক বেশি। ভিটামিন সি-ত্বক, দাঁত ও চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে হৃদরোগ, ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি হ্রাস করে। ভিটামিন সি অনুচক্রিকা গঠনে সহায়তা করে এবং ফ্রি রেডিক্যালের বিরুদ্ধে লড়ে বিভিন্ন ধরনের প্রদাহও প্রতিরোধ করে। আমলকী, টমেটো, কাঁচা মরিচ, আপেল, কলা, বাতাবি লেবু ও লেবু জাতীয় ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। বিভিন্ন দুগ্ধজাত খাবার ও ডিমে ভিটামিন বি ১২ পাওয়া যায়। রোগ থেকে দ্রুত সেরে উঠতে ভিটামিন বি ১২ দারুণ কার্যকর। মুরগি, স্যামন, টুনা, সবুজ শাক সবজি, চানা ডালে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি ৬ রয়েছে। শরীরের ইমিউন সিস্টেমে বায়োকেমিক্যাল রিঅ্যাকশন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন বি ৬। আলমন্ড, কাজুবাদাম, আখরোট, চিনেবাদামে প্রচুর পরিমাণে এই ভিটামিনই রয়েছে। যা রোগ সংক্রমণের সঙ্গে লড়াইয়ের ক্ষমতা বাড়ায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে ভিটামিন ডি খুবই উপকারি। কর্ডলিভার অয়েল, মাশরুম, সামদ্রিক মাছ, সূর্যমুখী ফুলের বীজ, দুধ এবং ডিমে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ডি আছে।
  • জিঙ্ক: জিংক সর্দি এবং ভাইরাস প্রতিরোধে সহায়ক। লাল মাংসে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক থাকে। এছাড়া, দুগ্ধজাত পণ্য, আঁশযুক্ত মাছ, ডিম, বাদাম, শিম, ছোলা, মসুর ডাল, মটরশুটি ইত্যাদিও খেতে পারেন। এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে জিংক থাকে।  
  • আদাঃ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে আদা একটি যাদুকরী উপাদান। এছাড়া অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরী উপাদান সমৃদ্ধ এই খাবারটি বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ প্রতিরোধেও কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। আদা বমি বমি ভাব, ফ্লু উপসর্গ, সর্দি এবং হাঁচি, ঠাণ্ডা লাগার মত রোগের চিকিৎসার জন্য বহু শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ভিটামিন সি আয়রন, দস্তা, ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামে পরিপূর্ণ বলে আদা রোগ প্রতিরোধের লড়াইয়ে দারুণ কার্যকরী।
  • রসুনঃ রসুন হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়। রসুনে রয়েছে আঁশ, ম্যাঙ্গানিজ, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি ৬, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও প্রোটিন। এছাড়া রয়েছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর মতো ‘অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট’, ‘সেলেনিয়াম’সহ বেশ কয়েকটি উপাদান। নিয়মিত রসুন খাওয়া পাকস্থলীর নানা সমস্যা, অর্থাৎ ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক থেকে রক্ষা করে।
  • কালমেঘ: কালমেঘ গ্রিন চিরোতা বা ইন্ডিয়ান ইচিনেসিয়া নামেও পরিচিত। চিরতা হল একটি এন্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ভেষজ যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশ, ভারতে এবং শ্রীলঙ্কায় পাওয়া যায়। অ্যান্টিবডির উৎপাদন বৃদ্ধি করতে এবং রোগ সংক্রমণের তীব্রতা কমাতে ঐতিহ্যগতভাবে আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসেবে চিরতা ব্যবহৃত হয়। চিরতায় এমন কিছু যৌগ রয়েছে যা ভাইরাসের মতো আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে লড়াই করার জন্য প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে জোরালো করে।
  • এলডারবেরি টিঙ্কচার: এলডারবেরি টিঙ্কচার হল ফুল এবং বাকলের মিশ্রণে তৈরি এক প্রকার ভেষজ ওষুদ। প্রাচীন কাল থেকেই এটা জ্বর, মুখের জ্বালা এবং শ্বাস প্রশ্বাসের সংক্রমণ যা সর্দি, কাশি, সাইনোসাইটিস সৃষ্টি করে ইত্যাদির নিরাময়ে ব্যবহার হয়ে আসছে। এলডারবেরিতে মূত্রবর্ধক, রেচক, অ্যান্টিরিউম্যাটিক এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ব্যাপক কার্যকরী বলে প্রমাণিত। এটি ভেষজ ওষুধের দোকানে পাওয়া যায় অথবা নিজেও তৈরি করে নেয়া যায়। ১০০ শতাংশ খাঁটি ভোদকার সঙ্গে কালোজাম মিশিয়ে ৬ সপ্তাহ রেখে দিলে এলডারবেরি টিঙ্কচার তৈরি হয়ে যাবে।
  • রান্নার মসলাঃ রান্নায় ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকারের প্রয়োজনীয় মসলা যেমন- পিয়াজ, রসুন, হলুদ, আদা, গোলমরিচ, জিরা, দারচিনি, এলাচ ইত্যাদি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কারণএসবমসলাএ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধখাবারতাইঘরোয়াভাবেরোগপ্রতিরোধকরতেরান্নায়নিশ্চিন্তেপরিমাণমতমসলাব্যবহারকরুন

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর উপায় সম্পর্কে আমাদের প্রত্যেকের জানা উচিত। শরীরে যদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা না থাকে, তাহলে বিভিন্ন ভয়ংকর রোগ বাসা বাঁধবে। ফলে, নিজের অর্থের যেমন ক্ষতি হবে, ক্ষতি হবে দেহেরও। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ফলমূল ও শাকসবজির বিকল্প কিছু নেই বলে জানিয়েছে খাদ্য বিশারদগণ। আপনার দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হলে আপনাকে অবশ্যই শাকসবজি খেতে হবে নিয়মিতই। আর জেনে রাখা প্রয়োজন যে, শাক-সবজির মধ্যে বিভিন্ন সবজির বীজও অন্তর্ভুক্ত। প্রতিটি মানুষের শরীরেই রোগ প্রতিরোধ করার সহজাত ক্ষমতা থাকে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে যেমন দূষণ, ভেজাল খাবার, অপুষ্টি, অনিয়মিত জীবনযাপন ইত্যাদির ফলে এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে থাকে। তাই, সুস্থ ও সুখী জীবনযাপনের জন্য, এবং নিজের দেহকে রোগ প্রতিরোধের জন্য ক্ষমতাবান করে তোলার উপরোল্লিখিত খাবারগুলো অবশ্যই নিয়মিত গ্রহণ করুন।

Leave a Reply