You are currently viewing নিজেকে কীভাবে এলার্জি মুক্ত রাখবেন
এলার্জি যার আছে সেই একমাত্র জানে এলার্জি কতটা বেদনাদায়ক

নিজেকে কীভাবে এলার্জি মুক্ত রাখবেন

এলার্জি যার আছে সেই একমাত্র জানে এলার্জি কতটা বেদনাদায়ক । রাতে ঘুমানোর আগে আমরা মশারী,কয়েল বা স্প্রে ব্যবহার করি মশার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য। মশায় কামড়ানোর পরে এগুলো আমরা ব্যবহার করি? করিনা। অথচ রোগের ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থা হল আগে রোগ হোক তারপর দেখা যাবে কি হয়। এলার্জি হলেই আমারা ওষুধ খাই । কিছু সহজ পদক্ষেপ আছে তা সচেতনভাবে মেনে চললে আপনি যেখানেই থাকুন না কেন এলার্জি আক্রমণ থেকে আপনি মুক্ত থাকবেন।

ঘরে

  • যেসব খাদ্যে প্রচুর এলার্জির সম্ভাবনা থাকে সেসব খাদ্য পরিহার করা উচিত।
  • আপনার পরাগজনিত এলার্জি থাকলে ঘরের জানালা বন্ধ রাখুন ।
  • আপনার বাড়ির আর্দ্রতা ৫০% এর নীচে রাখুন।
  • পালকের তৈরি বালিশ ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন এবং সিন্থেটিক, নন – এলার্জিক বালিশের কাভার, বিছানার চাদর ব্যবহার করুন। 
  • পর্দা, কম্বল, তোষক, বালিশ, বাসার আসবাবপত্রে প্রচুর ধুলা জমে এগুলো পরিস্কার করার সময় দূরে থাকার চেষ্টা করবেন।
  • আপনার যদি পোষা প্রাণী থাকে তবে তাদের ঘরের বাইরে রাখার বিষয়টি বিবেচনা করুন। যদি আপনার অ্যালার্জি গুরুতর হয় তবে আপনি অন্য কাউকে তাদের যত্ন নিতে বলতে পারেন । পশুর লোম এবং লালা অনেকেরই সাধারণ অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। যদি আপনি আপনার পোষা প্রাণীটিকে ভিতরে রাখার সিদ্ধান্ত নেন তবে সেগুলি আপনার শোবার ঘরে ঢুকাবেন না। তাদেরকে প্রতিদিন স্নান করান।

  • স্যাঁতস্যাঁতে জামাকাপড় এবং জুতো সংরক্ষণ করার আগে ভিতরে বাতাস ঢুকিয়ে নিন।
  • ঘরে লাগানোর জন্য বেশি গাছ সংগ্রহ করবেন না।
  • আপনার বিছানার চাদর গরম পানি দিয়ে প্রতি সপ্তাহে ধুয়ে ফেলুন।
  • আপনার বাড়িতে কাউকে ধূমপান করার অনুমতি দেবেন না।
  • আপনি ঘর পরিষ্কার বা পেইন্ট করার সময় একটি মাস্ক এবং গ্লাভস পরুন। এটি আপনার ধুলো এবং রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসতে বাধা দেবে। কারণ দুষিত বাতাস, ঘরের ধুলো, ফুলের পরাগ, ধোয়া, কাঁচা রংয়ের গন্ধ, চুনকাম, পুরানো ফাইলের ধুলো ইত্যাদি দেহে এলার্জিক বিক্রিয়া সৃষ্টি করে হাপানি রোগের সৃষ্টি করতে পারে
  • রান্না ঘরের ধোঁয়া সরানোর জন্য চুলার উপরে একটি একজস্ট ফ্যান ইনস্টল করুন।
  • পরাগজনিত এলার্জি থেকে আপনার চোখকে বাঁচাতে অবশ্যই ঘরের বাইরে সান গ্লাস ব্যবহার করুন।

গাড়িতে

  • গাড়ির জানালা বন্ধ রাখুন।
  • গাড়ির ভিতরে কাউকে ধূমপান করতে দেবেন না।

ঘরের বাইরে

  • বাগানে কম হাঁটুন।
  • আবহাওয়া পূর্বাভাস দেখুন। গরম, শুকনো, বাতাসের দিনে যতটা সম্ভব বাড়ির ভিতরে থাকুন, যখন বাতাসে পরাগের পরিমান সবচেয়ে বেশি থাকে।
  • চরম তাপমাত্রার পরিবর্তন এড়াতে চেষ্টা করুন – এগুলি হাঁপানির কারণ হতে পারে।
  • আপনি বাইরের কাজ সেরে ঘরে ফেরার পর গোসল করুন, চুল ধুয়ে ফেলুন এবং আপনার পোশাক পরিবর্তন করুন। এটি আপনার পোষাক এবং চুলগুলিতে সংগ্রহ করা পরাগ থেকে মুক্তি দিবে।
  • কীটপতঙ্গ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে জুতা, লম্বা প্যান্ট এবং লম্বা হাতা পড়ুন।
  • সুগন্ধযুক্ত ডিওডোরান্টস, পারফিউম, শ্যাম্পু বা চুলের পণ্য যা আপনার অ্যালার্জির কারণ হতে পারে তা পরিহার করুন।
  • কাপড় শুকানোর জন্য ঝুলিয়ে রাখবেন না। 
  • আপনার প্রিয় বাগানের আগাছা পরিষ্কার করতে অবশই মাস্ক ব্যবহার করুন।
  • আপনি যদি বুঝতে পারেন বাগানের কোন গাছ আপনার ক্ষতি করছে তা অপসারণ করুন।
  • কাজ সেরে গোসল করুন।
  • সবসময় টিসু  বা রুমাল সাথে রাখুন।

রাস্তায়

  • রাস্তায় হাটার সময় ধুলাবালি থেকে রক্ষা পেতে অবশ্যই মাস্ক ব্যাবহার করুন এবং প্রয়োজনে টিসু, রুমাল সাথে রাখুন।

হোটেলে

  • হোটেলে ধূমপানমুক্ত রুম নিন।
  • পালকের বালিশগুলি সরান এবং সিন্থেটিক, ননালার্জিক বালিশের জন্য বলুন। বা বাড়ি থেকে নিজের প্লাস্টিকের বালিশের কভারটি আনুন।

রাতের খাবারের জন্য

  • ধোঁয়াবিহীন রেস্তোঁরায় খাবার খেতে যান।
  • আপনার যে খাবারে অ্যালার্জির উপাদানগুলি আছে এমন খাবার এড়িয়ে চলুন। মেনুগুলি মনোযোগ সহকারে পড়ুন এবং ওয়েটারকে জিজ্ঞাসা করুন যে, ডিশটি কীভাবে তৈরি করা হয়েছে। প্রস্তুত বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের তুলনায় তাজা খাবার বেছে নিন।

শিশুদের ক্ষেত্রে

  • শিশুদের ক্ষেত্রে গরুর দুধে এলার্জি(গায়ে চুলকানি বা হাপানি) হতে পারে।
  • আপনার বাচ্চার এলার্জি নিয়ে আপনার বাড়ির কর্মীদের সাথে আলোচনা করুন।
  • যদি তার খাবারের এলার্জি থাকে তা তার শিক্ষক এবং লাঞ্চরুমের কর্মীদেরকে অবহিত করুন।
  • আপনার শিশুকে তার এলার্জি সম্পর্কে তাড়াতাড়ি শিখিয়ে দিন। এটি তাকে এমন কিছু খাওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেবে যা অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
  • তাকে খেলাধুলা করতে উৎসাহিত করুন।

সবশেষে, যারা হাপানি রোগে ভুগছেন তাদেরকে উপরের সবগুলি স্টেপ ঠিকঠাকভাবে মেনে চলতে হবে।

Arif Billah

স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য, উপাত্ত এবং পরামর্শ নিয়ে আমি সবসময় হাজির আছি আপনার পাশে!

This Post Has 2 Comments

Leave a Reply